ডেস্ক রিপোর্টার || মিডিয়া জার্নাল
দেশে সাংবাদিকতা নিয়ে একের পর এক নীতিমালা প্রণীত হয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল—এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০টি নীতিমালা কার্যকর আছে, যা সবই প্রয়োগ হচ্ছে সাংবাদিক ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটা নীতিমালা শেষ হওয়ার আগেই আরেকটা চাপানো হচ্ছে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সমন্বিত জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। এতে প্রতিটি গণমাধ্যমের জন্য আলাদা আলাদা আইন বা বিধি লাগবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের সাংবাদিকরাই পারেন প্রকৃত সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে। এজন্য প্রয়োজন ঐক্য, সত্যের পক্ষে অবস্থান এবং দাসত্বের মানসিকতা ত্যাগ করা। তখনই সাংবাদিকরা ‘পেইডডগ’ নয়, বরং জাতির প্রকৃত ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
কাদের গনি চৌধুরী উল্লেখ করেন, “সংবাদপত্র ছাড়া মানবসভ্যতা কল্পনা করা যায় না। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, কিন্তু আমরা কতটা তা ধরে রাখতে পেরেছি, সেটাই এখন প্রশ্ন।”
তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক গণমাধ্যম ও সাংবাদিক জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করেছে। কেউ কেউ তখন মানববন্ধন করেছে ফ্যাসিস্ট শাসনের পক্ষে। তাদের জন্য শুধু ঘৃণাই প্রাপ্য।”
বিএফইউজে মহাসচিব অভিযোগ করেন, “১৬ বছর দেশে প্রকৃত সাংবাদিকতা ছিল না। গণমাধ্যম মালিকরা সাংবাদিকদের দিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। এখনো অনেক সাংবাদিক ৪-৫ হাজার টাকায় কাজ করছেন, অথচ তারা ন্যায্য বেতন পাচ্ছেন না। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অনেক দালাল সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কেউ কেউ ধরা পড়েছে। তারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সত্য প্রকাশ না করে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছিল। তাদের জন্য আজ এই পরিণতি।”
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাদের গনি চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “গণমাধ্যম যদি নিজের স্বকীয়তা হারায়, তাহলে গণশক্তিতে পরিণত হবে না—বরং গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আগামী সরকার যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।”
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আনিসুজ্জামান, প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ নূর ইসলাম ও আহসান কবির প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং সাবেক সম্পাদক তৌহিদ জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


























