খুলনায় একই পরিবারের ৩ জনসহ চার খুন
খুলনা অফিস || মিডিয়া জার্নাল
খুলনায় একই রাতে পৃথক দুই স্থানে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছেন একই পরিবারের নানী-নাতীসহ তিনজন এবং অপর এক ঘটনায় আলাউদ্দিন মৃধা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) রাত ৮টার পর লবনচরা ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নানী-নাতীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার : রাতে লবনচরা থানাধীন দরবেশ মোল্লার গলির একটি বাড়ির মুরগির খামারের পাশে ভূসির ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—নানী সাহিদুন্নেছা (৫৫) তার নাতি মোস্তাকিম (৯) ও নাতনি ফাতিহা আহম্মেদ (৬)।
পুলিশ জানায়, শিশু দুটির বাবা-মা শেফার আহমেদ ও রুবি আক্তার চাকরির কারণে সকালে তাদের নানির কাছে রেখে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দরজায় নক করেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমে সাহিদুন্নেছার লাশ দেখতে পান। পরে মুরগির ঘর থেকে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার হয়।
লবনচরা থানার ওসি সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, তিনজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। লাশ তিনটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, একই রাতে সোনাডাঙ্গা থানাধীন করিমনগর এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে আলাউদ্দিন মৃধা নামে এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সৈয়দ আলী হোসেন স্কুলের পাশে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আলাউদ্দিন সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে বারান্দার সিঁড়িতে বসে ছিলেন। এসময় ৬–৭ জন দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আচমকা গুলি ছোড়ে। দুটি গুলি তার বুকে ও পেটে লাগে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, আলাউদ্দিনের লাশ খুমেক হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখনও মামলা হয়নি, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি চলছে৷


















