খুলনা অফিস || মিডিয়া জার্নাল
কারাগারে ও বাইরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু ও পলাশ গ্রুপ। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সহযোগী কালা তুহিন ও পলাশ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হয়। ঘটনার পর খুলনা কারা অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মুনীর হোসাইন রোববার আমার দেশকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু ও পলাশ গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে আগে থেকেই দ্ব›দ্ব ছিলো। তাদের অনেকে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে। শনিবার বিকেলে কারাগারে মধ্যে একে অপরকে টিটকারী মারাকে কেন্দ্রে করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে সাইরেন বাজিয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে শান্ত করি। তবে কেউ গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য জিতু, রাব্বি ও কালা তুহিনকে কাশেমপুর কারাগারে হাইসিকিউরিটি সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু ও রোহান-পলাশ গ্রুপ কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। রোহান-পলাশ গ্রুপের পলাশসহ তার অনুসারিরা গ্রেফতার হলেও বি কোম্পানীর প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তার বাড়িতে যৌথ বাহিনী অভিযানে চালিয়ে তার বাবা ও ভাই সহ কয়েকজনকে আটক করে।
যেভাবে নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগারে : ২০২৫ সালের ৬ মে রাতে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অন্যতম সহযোগী তাওহিদুল ইসলাম তুহিন ওরফে কালা তুহিনসহ (৩৫) তিনজনকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। ওই সময় তাদের কাছ থেকে একটি রিভলভার, চার রাউন্ড বুলেট, একটি ওয়ান শুটার বন্দুক, দুটি কার্টুজসহ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃ অন্যরা হলেন হাবিব শেখ (৩২) ও কে এম মিজানুর রহমান ওরফে সুজন (৪৫)। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাঙ্গেমারী এলাকার ফারুকের হাঁসের খামারে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেন। এর পর থেকে সে কারাগারে রয়েছে।
২৯ মার্চ ( শনিবার) রাতে খুলনায় কেএমপির তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহান গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করতে গিয়ে অভিযানে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সঙ্গে ৩ ঘন্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বাহিনী প্রধান পলাশ শেখ (৩৮)সহ ১০ জন গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যারা হলেন নূরে আলম সিদ্দিকী ওরফে লিয়ন শরীফ (২৯), রুবেল ইসলাম লাভলু ওরফে কালা লাভলু (৩৫), ইমরান হোসেন ওরফে ট্যাটু ইমরান (৩৫), সৈকত রহমান (২৭), ফজলে রাব্বি রাজন (৩৬), রিপন (৩০), গোলাম রব্বানী (২৬), ইমরানুজ্জামান (৩৩) এবং শহিদুল (৩৫)। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে পুলিশ ও নৌবাহিনী মিলে ৮ সদস্য আহত হয়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র, গুলি, মোবাইল ফোন ও মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ওই সময়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র সদর দপ্তরে এক প্রেসবিফ্রিংয়ে কেএমপির কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার বলেছিলেন ৩ ঘন্টা যাবত বন্দুকযুদ্ধের সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের লক্ষ্য করে ৮০-৯০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের সাথে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলাম ৭ জন পুলিশ সদস্য এবং একজন নৌ বাহিনীর সদস্য গুরুতর আহত হয়। পুলিশ নিজেদের রক্ষার্থে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে শর্টগানের ৪৭ রাউন্ড গুলি ফায়ার করে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতরা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
জানা যায়, কেএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহান গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা সৈকত রোহান ২০১৬ সালে ৩১ আগস্ট প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ মামলার অন্যতম আসামি হলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ওরফে ডন।
দুই বার গ্রেনেড বাবুর বাসায় অভিযান : গত ৮ জুন পুলিশের তালিকায় থাকা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রনি চৌধুরী বাবুর (গ্রেনেড বাবু) বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। নগরের শামসুর রহমান রোডে চলে এই অভিযান। এ সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ওয়ান শুটারগান, কয়েক রাউন্ড গুলি ও কয়েকটি দেশের মুদ্রা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রনি চৌধুরীর বাবা জোনায়েদ চৌধুরী এবং শামসুর রহমান রোডের আব্দুর রহমান ও ইদ্রিস গাজী। এর আগে ৪ এপ্রিলও গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ওই সময় তাঁর বাবা-ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে অস্ত্র ও মাদক বিক্রির ৩৮ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই সময়েও গ্রেনেড বাবুকে গ্রেফতার করতে পারেনি যৌথবাহিনী।



















