জুলাই গণঅভ্যূত্থানের বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত ৬ আগস্টের বিজয় মিছিল কর্মসূচি পালন করবেন খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারীরা। বড় আকারের গণজমায়েত ঘটানোর প্রস্ততি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। কর্মসূচিতে শুধুমাত্র মঞ্জুর অনুসারীরাই নন, নগরীর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যাতে অংশ নেন সে পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
যোগাযোগ করা হলে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী আমার খুলনায় বিজয় র্যালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্ত আমরা বিজয় উৎসব করবো না। মাইলস্টোনে বিমান দূর্ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আমরা শোকাহত। গত জুলাই যেমন হাজারো শিক্ষার্থীর রক্তে ভেজা ছিল, এবারও তাই। ফলে আমরা তাদের জন্য দোয়া করবো।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে সোনাডাঙ্গা থানাস্থ বিএনপি কার্যালয়ে প্রস্ততি মিটিং করেছেন তিনি। রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্যে তিনি বলেছেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রক্ষা করতে হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যেমন ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, বর্তমানে বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের পালাতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
প্রস্ততি সভায় মহানগর বিএনপির সাবেক কমিটির একাধিক সহ সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, থানা ও ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং বেশ কিছু অঙ্গ সংগঠনের সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মঞ্জু অনুসারীদের এই প্রস্ততি সভার পরে নানান আলোচনা ও গুঞ্জন ভাসছে শহর জুড়ে। তিনি আবারও নেতৃত্বে ফিরছেন কিনা, খুলনা সদর আসন থেকে তিনি পুনরায় নির্বাচন করবেন কিনা- সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা এটাই।
এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলমান। ঐক্যবদ্ধ ভাবেই এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। এই শহর থেকে আমরা নির্বাচন করেছি। আবারও এই শহরে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষের সবাইকে নিয়েই তা করতে হবে। মতভেদ মতদ্বৈততা থাকবে। কিন্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।
দলের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে আলাপ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অচিরেই আমরা কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি অফিস থেকে আমাদের দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করবো। সাড়ে তিন বছর বাইরে বাইরে থেকেছি। রাজনীতির স্থায়ী ঠিকানায় ফেরার সময় এসেছে।
উল্লেখ্য, এক সময় খুলনা বিএনপির প্রাণভোমরা ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ৩০ এমপির একজন। ২০২২ সালে মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন হলে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যহতি দেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর দলীয় পদে না থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুসারী নিয়ে কেন্দ্রে ও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সকল কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছেন।



















