হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মোসলেম আলী, বয়স ৭৮। নগরীর রায়েরমহল পশ্চিম পাড়া মালেক সড়কে চেম্বার। হ্যানিম্যান হোমিও ফার্মেসী ও শিশু মাতৃমঙ্গল চিকিৎসালয় নামে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ৫৭ বছরের অভিজ্ঞতা। জীবনের অন্তিমলগ্নে এসে চরম অনৈতিকতায় জড়িয়েছেন। বিষাক্ত উপাদানে তার হাতে তৈরি মদ পান করে গত কয়দিনে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, এর বাইরে সম্প্রতি আরও কিছু মানুষ এলাকায় মারা গেছে, যারা ওই ডাক্তারের গ্রাহক ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো: আবু তারেক। রোববার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে রাসেল সরদার নামে আরও এক ব্যক্তি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া এলাকায়।
তিনি জানান, শেখ মোসলেম আলি দীর্ঘদিন ধরে এলকোলি নামের মাদক, ঘুমের ওষুধ ও চুনের পানি দিয়ে ঘরে বসে মদ তৈরি করতেন। যা চিকিৎসার ভাষায় বিষাক্ত মদ। আড়ংঘাটা থানার পূর্ব বিল পাবলা মদিনা নগর এলাকার একটি ঘেরে বসে কয়েকজন সেই মদ পান করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে একজন এবং শনিবার আরও ৪ জন মারা যান। রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মদ বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মোসলেম আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রিজন সেলে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা মহানগরীর বয়রার বাসিন্দা ৪ জন, পিরোজপুরের একজন এবং ডুমুরিয়ার একজন রয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মিজানুর রহমান বলেন, খুলনায় অবৈধ ভাবে মদ তৈরি করছেন এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। পত্রিকায় মাধ্যমে জানতে পেরেছি মদ পানে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবৈধ মদ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।




















